আব্দুল মতিন মুন্সি
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬, 3:22 PM
প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ।। ক্লাস বন্ধ
আব্দুল মতিন মুন্সী: একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, বার্ষিক পরীক্ষা না নেওয়া, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি করা হয়েছে বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিন রেনিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম গত ছয় বছর ধরে বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য অভিভাবকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেন এবং বিদ্যালয়ের পাঠদানের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি, বুধবার নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা হওয়ায় বিদ্যালয়ে নিজের ইচ্ছামতো আসা-যাওয়া করেন। ওই দিন হাটখোলার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও আরেক প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা মোঃ রাকিবুল ইসলাম মিলনের নেতৃত্বে ৪/৫টি মোটরসাইকেলযোগে আরও ৪/৫ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং পরীক্ষা বন্ধ করে দেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামও তার সঙ্গে ছিলেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানালে শিক্ষকরা জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো তালাবদ্ধ করে মোটরসাইকেলযোগে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে অভিভাবকরা বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফোনে জানালে তিনি একজন সহকারী কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে পাঠান। পরে সকাল ১০টার নির্ধারিত পরীক্ষা দুপুর সাড়ে ১২টায় গ্রহণ করা হয়। এ ঘটনায় ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি, রবিবার অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এলাকাবাসী রজব আলী অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে বসেই রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত থাকেন। অভিভাবক সুমন শেখ বলেন, “প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত ড্রাইভার হিসেবে সহকারী শিক্ষক সাজেদুল ইসলাম কাজ করেন। বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে দুজন অন্যত্র চলে গেছেন। এতে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় আমরা প্রধান শিক্ষকের বদলি চাই।”
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মজিবর রহমান আমিনের পুত্রবধূ রুলিয়া পারভিন বলেন, “প্রধান শিক্ষক চেয়ারে বসে সারাক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করেন। কিছু বললে বলেন, তিনি মেইল চেক করছেন। তিনি কি উপজেলা অফিসে চাকরি করেন যে সারাক্ষণ মোবাইল চেক করতে হবে?”
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ওনাদের নিজেদের মধ্যে ভাই-ভাই দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমি মফিজুল আমিনের ছেলেকে প্রথম না করায় তারা ক্ষুব্ধ। একজন ভ্যানচালকের সন্তান ভালো পড়াশোনা করলে সেও তো প্রথম হতে পারে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রকিবুল হাসান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত টিম বিদ্যালয়ে গিয়েছিল। তারা এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। প্রতিবেদন পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”