নিমাত উল্লাহ
৩১ মে, ২০২৬, 3:26 PM
লটারির আড়ালে জমজমাট জুয়ার আসর, সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ
সার্কাসের অনুমতি থাকলেও তার আড়ালে লটারির নামে চলছে জমজমাট জুয়ার আসর—এমন অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ব্যাশপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন শত শত মানুষকে প্রলুব্ধ করে জুয়ার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এতে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং সর্বস্ব হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সার্কাস মাঠকে কেন্দ্র করে লটারির নামে এক ধরনের জুয়ার আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি অশ্লীল নৃত্যের আয়োজনও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
জুয়ার আয়োজনকারীরা দাবি করছেন, তারা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সাপ্তাহিক আল-হেলালকে বলেন, “ওই স্থানে শুধুমাত্র সার্কাস প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জুয়ার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। জুয়ার বিষয়টি আমাদের জানা নেই।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাশিয়ানীর ওই আয়োজনের টিকিট শুধু স্থানীয় এলাকাতেই নয়, পাশ্ববর্তী বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলাতেও প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যদি জুয়ার অনুমতি না থাকে, তাহলে কীভাবে একাধিক উপজেলায় প্রকাশ্যে টিকিট বিক্রি হচ্ছে? কারা এর পেছনে রয়েছে? কোন প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে?
এদিকে, গতকাল ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সহস্রাইল বাজারে জুয়ার টিকিট বিক্রি করতে এলে স্থানীয় জনতা তাদের প্রতিহত করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিকিট বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে এর প্রতিবাদ জানান। পরে জনতার বাধার মুখে টিকিট বিক্রেতারা এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। স্থানীয়রা বলেন, জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি কোনোভাবেই এলাকায় বিস্তার লাভ করতে দেওয়া হবে না।
বিষয়টি নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাকিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “জুয়া খেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের কোনো কার্যক্রম চললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের নাকের ডগায় এভাবে জুয়ার আসর চলতে থাকলে যুবসমাজ বিপথগামী হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক অস্থিরতা আরও বাড়বে।