নিমাত উল্লাহ
২৪ জুলাই, ২০২৬, 10:53 AM
মধুখালীর মথুরাপুর সড়ক এখনও কাঁচা, চরম দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের মথুরাপুর এলাকায় আখের আলী মাতুব্বরের বাড়ি থেকে চত্বর বিল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখনও কাঁচা রয়েছে। দীর্ঘদিনেও সড়কটি পাকাকরণের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ চলাচল করলেও এখন পর্যন্ত রাস্তাটির উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কাদায় পরিণত হয়, ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। অনেক সময় যানবাহন কাদায় আটকে যায় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন অসুস্থ রোগীরা। জরুরি মুহূর্তে রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে কাঁচা রাস্তার কারণে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়। দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক সময় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, যা রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
এ সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পিচ্ছিল রাস্তার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
মথুরাপুর এলাকাটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় প্রতিবছর হাজার হাজার টন ধান, পাট, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য এই সড়ক দিয়েই বিভিন্ন হাট-বাজারে পরিবহন করা হয়। কিন্তু রাস্তা কাঁচা থাকায় কৃষকদের অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় গুনতে হয় এবং সময়মতো ফসল বাজারজাত করতেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহুবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করতে আখের আলী মাতুব্বরের বাড়ি থেকে চত্বর বিল পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।