ডেস্ক রিপোর্ট
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 5:31 PM
সদর সাব-রেজিস্টার অফিসের ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
ফরিদপুর সংবাদদাতা: সদর সাব-রেজিস্টার অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলা ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
০২ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের ফরিদপুর জেলার সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক মো. শামীম হোসেন।
এর আগে ০১ ফেব্রুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাসার বাদী হয়ে ফরিদপুরের দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও সংযুক্ত কাগজপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তরা হলেন— ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্টার অফিসের সাবেক সাব-রেজিস্টার মো. ইউসুফ আলী মিয়া (৬০), তুলনাকারক মো. মেহেদী হাসান (৩৭), নকলকারক মনোয়ার হোসেন (৪০), পাঠক মো. জাহিদ শেখ (৪১) এবং মো. জিহাদ শেখ (৩৩)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে সাব-রেজিস্টার অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দলিল নিবন্ধনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন। নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে ঘুষ না দিলে দলিল গ্রহণে অযৌক্তিক বিলম্ব, নানা অজুহাতে হয়রানি এবং কখনও দলিল ফেরত দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সময়ে (২০১৭-২০১৮) অভিযুক্তরা অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেন, যা দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাঁরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় বিষয়টি অনুসন্ধান করে। অনুসন্ধান শেষে প্রাপ্ত প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়। সেই অনুযায়ী ১৮৭৯ সালের দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।
ফরিদপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রতন কুমার দাশ বলেন, ‘মামলাটি আদালতে বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ ও সাক্ষ্যগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্টার অফিসে সেবা প্রত্যাশীদের মধ্যে স্বস্তির পাশাপাশি সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে।