আব্দুল মতিন মুন্সি
১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, 5:50 PM
আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলার আসামি দোলনকে ঘিরে উত্তপ্ত ফরিদপুর-১ আসন জনগণের ক্ষোভ চরমে, ‘ঝাড়ু মিছিলের’ প্রস্তুতির হুঁশিয়ারি
আব্দুল মতিন মুন্সী
ফরিদপুর-১ আসনে রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান দোলন। তার বিরুদ্ধে আলোচিত আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও গভীর হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—একাধিক বিতর্কের পরও দোলন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন এবং নিজ অবস্থান শক্ত করতে তৎপর।
স্থানীয়দের দাবি, বিগত সময়ে নানা ভয়ভীতি, দুঃশাসন ও ক্ষমতার প্রভাব খাটানো দেখে মানুষ ক্ষুব্ধ। ফরিদপুর-১ আসনের ভুক্তভোগীরা বলছেন—“আমাদের উপর যে নির্যাতন হয়েছে, তা আর মেনে নেব না। ফ্যাসিস্টদের প্রভাব এবার গণতান্ত্রিক শক্তি প্রতিরোধ করবে।”
এলাকার জনগণ আরও জানান, সাধারণ ভোটারদের ঘরে ঘরে এখন পরিবর্তনের সুর। অনেকেই বলেন,
“দোলনসহ যারা জনগণের ক্ষতি করে সুবিধা ভোগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণ এবার ঐক্যবদ্ধ। সময় এলে ঝাড়ু হাতে অন্যায়ের জবাব দেবে ইনশাআল্লাহ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দোলনকে ঘিরে বিস্তর বিতর্ক এবং দুর্নীতির মামলার আলোচনায় ফরিদপুর-১ আসনটি বর্তমানে সবচেয়ে ‘হাই-ভোল্টেজ’ এলাকায় পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
অনেকে মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অস্থিরতা, পক্ষপাতমূলক আচরণ ও প্রশাসনিক চাপের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে আছে। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে গণমানুষের প্রতিবাদী অবস্থান।
অপরদিকে, স্থানীয় বিএনপি, বিরোধী দল ও নতুন প্রজন্মের তরুণ ভোটাররা দোলনের রাজনীতির বিরুদ্ধে আরও সংগঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। তাদের অভিযোগ, জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা এলাকার শান্তি ও উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি করছে।
ফরিদপুর-১ আসনের ভোটারদের প্রত্যাশা—আগামী দিনে স্বচ্ছ, সৎ, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব নেতৃত্ব দেখতে চান তারা। এলাকাবাসীর মন্তব্য—“জনগণ কখনোই অন্যায় ক্ষমতার দম্ভকে প্রশ্রয় দেয় না।”
এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, আসন্ন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে দোলন ইস্যু বড় ভূমিকা রাখতে পারে।