সংবাদ শিরোনাম
আব্দুল মতিন মুন্সি
০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, 8:00 PM
খালেদা জিয়ার জীবনসংকটের সময়ে মনিরের শোডাউন—মনোনয়ন দৌড়ে বাড়ছে বিতর্ক নেত্রী গুরুতর অসুস্থ, অথচ ফরিদপুর–১ এ মনিরুজ্জামান মনিরের শক্তি প্রদর্শন—ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রশ্ন।
আব্দুল মতিন মুন্সী
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন, ঠিক সেই সময়ে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মনিরুজ্জামান মনিরের জমকালো মোটরসাইকেল শোডাউন ঘিরে দলজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তার এ আচরণকে ‘চরম অসংবেদনশীল’ ও ‘ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রকাশ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শোডাউন শুরু মধুখালী থেকে
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল থেকে মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে মধুখালী থেকে শুরু হয় দীর্ঘ মোটরসাইকেল শোডাউন। এটি বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শতাধিক মোটরসাইকেল ও কয়েক শ’ নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে শোডাউনটি শক্তি প্রদর্শনের রূপ নেয়।
কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়—পুরো শোডাউনে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি বা সুস্থতা কামনায় কোনো স্লোগান, ব্যানার বা ফেস্টুন দেখা যায়নি। এ নিয়ে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে গভীর হতাশা।
ফরিদপুর জেলা বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—
“নেত্রী এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এই সময়ে আমাদের সব মনোযোগ থাকা উচিত তার সুস্থতা এবং সুচিকিৎসার দাবিতে। অথচ একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী এভাবে শক্তি প্রদর্শন করছেন—এটি সম্পূর্ণরূপে দলের মূল ভাবনার বিপরীত।”
তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও একই ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন।
তাদের ভাষায়—
“এ সময়ে শোডাউন নয়, নেত্রীর আরোগ্য কামনায় দোয়া মাহফিল হওয়াই ছিলো দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চোখে
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মনিরুজ্জামান মনিরের এই শোডাউন স্পষ্টতই নির্বাচনী শক্তি প্রদর্শন।
কিন্তু দলের শীর্ষ নেত্রীর সংকটময় মুহূর্তে এমন একক প্রচারণায় তিনি নিজের অবস্থানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
ফোনে যোগাযোগ করা হলে মনিরুজ্জামান মনির কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেননি।
শুধু জানান—বিকেলে তিনি দোয়া মাহফিল আয়োজন করবেন এবং পরে ছবি পাঠাবেন।
মনিরের কার্যক্রম কেন্দ্রের নজরে
দলীয় সূত্র জানায়—ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
এ সুযোগেই মনিরুজ্জামান মনির তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়াচ্ছেন বলে তৃণমূলে আলোচনা রয়েছে।
তবে তার আজকের শোডাউন ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে গভীর আলোচনা চলছে।
ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী ঘোষণা হলেও শুধু ফরিদপুর-১ ঝুলে আছে।
এ আসনকে ঘিরে মনিরের আগ্রহ এবং তার সাম্প্রতিক আচরণ—দলীয় মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সম্পর্কিত