ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
লটারির আড়ালে জমজমাট জুয়ার আসর, সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ বোয়ালমারীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বোয়ালমারীতে এমপি মহোদয়ের ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান বিতরণ, ৪০০ অসহায় মানুষের মাঝে নগদ সহায়তা প্রদান আলফাডাঙ্গায় সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন আবাসিক কওমি মাদরাসার শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাধারণ আলেম সমাজের ১০ দফা ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণে প্রশিক্ষণ কর্মশালা, মাদ্রাসায় লবণ বিতরণ পল্লবীতে শিশু রামিসার পরিবারের পাশে তারেক রহমান, দ্রুত তদন্তের আশ্বাস আলফাডাঙ্গায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় যুবকের উপর হামলার অভিযোগ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদে আলফাডাঙ্গায় বিক্ষোভ মিছিল

সেই কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক

#

ডেস্ক রিপোর্ট

১৭ এপ্রিল, ২০২৬,  10:50 AM

news image

টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ‘কৃষক কার্ড’ গ্রহণ করা কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক—এমন তথ্য উঠে এসেছে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। গত বুধবার জেলা প্রশাসক শরীফা হক কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেনের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি কৃষি অধিদপ্তরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে তার বাড়ি পরিদর্শন করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ১৩ শতাংশ জমির ওপর একটি দোচালা টিনের ঘরেই বসবাস করেন কবির হোসেন। পাশে রয়েছে একটি ছোট রান্নাঘর ও পেছনে গোয়ালঘরে তিনটি গরু। বাড়ির পাশেই পাটশাক ও ডাঁটার চাষে ব্যস্ত সময় কাটান তিনি। ঘরের ভেতরে সাধারণ আসবাবপত্রের পাশাপাশি সংরক্ষিত রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পাওয়া ‘কৃষক কার্ড’টি।

কবির হোসেন জানান, তাকে নিয়ে একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, “আমি একজন কৃষক। কৃষিকাজই আমার মূল পেশা। পাশাপাশি সময় পেলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রিলস ভিডিও তৈরি করি। নিজের ফেসবুক পেজে মাঝে মাঝে এআই ছবি পোস্ট করি, যেটা নিয়েও অনেকে ভুল ধারণা নিচ্ছে।”

তার স্ত্রী সেলিনা বেগম বলেন, তাদের আয়ের প্রধান উৎস অন্যের জমিতে বর্গা চাষ। তিনি আরও জানান, কৃষিকাজের ফাঁকে ফাঁকে তার স্বামী ফেসবুকে কনটেন্ট তৈরি করে সামান্য অতিরিক্ত আয় করেন। “একজন কৃষকের ভালো পোশাক পরা কি অপরাধ?”—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

স্থানীয় মাদরাসার সভাপতি মাজেদ তালুকদার বলেন, কবির হোসেন সারাক্ষণ কৃষিকাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। বাবার দেওয়া শ্যালো মেশিন দিয়ে অন্যের জমি চাষ করে সংসার চালান তিনি। তার নিজের কোনো জমি নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবেল মিয়া জানান, একটি রাজনৈতিক পোস্ট থেকে তাকে ‘ভুয়া কৃষক’ হিসেবে প্রচার করা হয়, যার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ায়।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের মতে, বর্গাচাষ করলেও কবির হোসেন কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য। কৃষিই তার প্রধান পেশা এবং তাকে ঘিরে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, “আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে দেখেছি, কবির হোসেন প্রকৃতপক্ষেই একজন কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।”

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কবির হোসেন একজন সরল-সহজ জীবনযাপনে অভ্যস্ত মানুষ, যিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছেন।

logo সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রিজাউল হক