নিমাত উল্লাহ
১৫ জুন, ২০২৬, 4:28 PM
মাদকের বিরুদ্ধে সব শ্রেণীর মানুষ ফুঁসে উঠেছে
ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলাজুড়ে মাদকের বিস্তার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে মাদক—এমন অভিযোগে এলাকাবাসী এখন আরও বেশি সংগঠিত ও সোচ্চার হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সভা-সমাবেশে মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা ও আহ্বান শোনা যাচ্ছে।
বোয়ালমারীতে এক অনুষ্ঠানে ফরিদপুর-১ আসনের এমপি প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, মাদক আমাদের দেশে চাষ হয় না, মাদক আমাদের দেশে প্রবেশ করে সীমান্ত এলাকা দিয়ে, কক্সবাজারে এর প্রবণতা বেশি। আমাদের সীমান্ত এলাকার সরকারি দল এবং বিরোধী দলের নেতারা যদি সর্বদা স্বেচ্ছার থাকেন, তাহলে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পৌঁছানো অসম্ভব। সরকারের কাছে আমি আবেদন করেছি তারা যেন এ বিষয়ে নজরদারি দেন।
একই মঞ্চে উপবিষ্ট ইউএনও ও ওসিকে উপস্থিত রেখে বিএনপির সংগ্রামী ও সাহসী নেতা, সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম মাদক কারবারিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পুলিশের কতিপয় দারোগা মাদক কারবারিদের ধরে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেন। এদেরকে ধরে শাস্তি বাড়িয়ে দিতে হবে।
৪৮ দলীয় মিনি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বোয়ালমারী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, “মাদক মুক্তের বড় ট্যাবলেট খেলা ধুলা—সচেতন জনগণকে নিয়ে বোয়ালমারীকে মাদক মুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ।
উক্ত অনুষ্ঠানে বোয়ালমারী উপজেলা ইউএনও এস এম রকিবুল হাসান বলেন, কেউ খোলামেলা জায়গায় ধূমপানও করতে পারবেনা। তিনি আরো বলেন, বোয়ালমারী উপজেলার বাতাস যদি শুদ্ধ হয়, এর ফল আপনারাই ভোগ করবেন, এবং এই শুদ্ধ বাতাসের জন্য আপনাদের সকলেরই সাহায্য আমাদের দরকার।
এ বিষয়ে সাপ্তাহিক আল-হেলাল পত্রিকার সম্পাদকয় ও মুসলিম মিডিয়া ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ রিজাউল হক বলেন, সর্বনাশা মাদকদ্রব্য থেকে যুব সমাজকে মুক্ত রাখতে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে খেলাধুলায় আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে, আমি মনে করি, প্রত্যেক মসজিদের আশপাশের যুবকদের মসজিদে আকৃষ্ট করতে পারলে ফলাফল অনেক বেশি ভালো হবে।
তিনি আরো বলেন, মাদক দমনে আমাদের প্রস্তুতি কারো দীর্ঘ, মুসলিম মিডিয়া ক্লাবের উদ্যোগে আমরা মসজিদ ভিত্তিক কার্যক্রম অতি দ্রুতই পরিচালনা করা শুরু করব ইনশাআল্লাহ।
মাদক নির্মূলের মহাপরিকল্পনা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বলেন, কোনো মাদক ব্যবসায়ী মুচলেকা দিয়ে যদি আত্মসমর্পণ করে, তার পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমি দিবো। এবং কোনো মাদক সেবনকারী প্রতিজ্ঞা করে সে মাদক ছেড়ে দিবে সে যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তার চিকিৎসার টাকা আমি দিবো।
স্থানীয় এলাকাবাসীর মতে, মাদকের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের এমন অবস্থান সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তারা মনে করছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, খেলাধুলা, ধর্মীয় অনুশাসন, পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ—সবকিছুর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব। আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালীবাসী আশা করছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একদিন এ অঞ্চল মাদকমুক্ত সমাজ হিসেবে গড়ে উঠবে।