নিমাত উল্লাহ
১০ এপ্রিল, ২০২৬, 5:17 PM
বোয়ালমারী পৌরসভার সকল ইমামের হাতে ঈদ সম্মানীর টাকা এখনো পৌছায়নি।। সচিব এবং নির্বাহী প্রকৌশলী অপসারণে মানব বন্ধনের হুমকি
ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইমামদের সম্মানী বিতরণকে কেন্দ্র করে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। ইমাম কমিটি, পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এক কাউন্সিলরের বক্তব্যে রহস্য দেখা দিয়েছে । প্রায় এক মাস অতিক্রম হলেও সকল ইমামের হাতে এখনো টাকা পৌঁছে নাই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে পৌর এলাকার ৬৬টি মসজিদের জন্য মোট ৬৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মসজিদের ইমামের জন্য ১ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক ঈদের বন্ধের আগেই বোয়ালমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমামের নিকট ৬৬ হাজার টাকার একটি চেক দেয়া হয়। চেক জমা দিয়ে টাকাও তুলে নেয়া হয়। এখন পর্যন্ত সকল ইমামের হাতে টাকা পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম হোসাইন আহমেদ জানান, মূল দায়িত্ব সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুস সামাদের। সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সামাদ জানান, সচিব এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হবে। এর আগে তিনি নিজ বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে ওই দুই কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। সেসময় তিনি এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) মো. মনিরুজ্জামান সিকদার জানান, অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা করা হয় নাই। ইমাম সাহেবের নিকট মাস্টাররোল চাওয়ার কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। গত বছরের মাস্টাররোলও এখন পর্যন্ত জমা দেন নাই।
প্রায় এক মাস আগে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গত ১৯ মার্চ বোয়ালমারী উপজেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর সামাদ এবং ইমাম হোসাইন আহমেদ পৌরসভার সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ইমামদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন।
তারা অভিযোগ করেন, অর্থ ছাড় দিতে টালবাহানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে অনুদান বন্ধের হুমকিও দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুর রহমান বলেন, ইমামদের ভাতার বিষয়টি আমার দপ্তরের নয়, এটি সচিব ও হিসাব শাখা দেখভাল
করে।