মহাব্বত মুন্সি
২৮ জুন, ২০২৬, 9:51 AM
বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গায় তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন
রাত-দিন মিলিয়ে গড়ে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতা; দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা
ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলায় কয়েকদিন ধরে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন ও রাত মিলিয়ে গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। শুধু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকাই নয়, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণেও ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত কোনো সময়সূচি ছাড়াই হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং কখন ফিরবে, সে বিষয়েও কোনো পূর্বঘোষণা থাকছে না। ফলে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করতে পারছেন না। অনেক এলাকায় দিনে একাধিকবার এবং রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা। রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটছে অনেক পরিবারের। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান ও প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে না পেরে অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই জানান, টানা লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না। অনেক পরিবার বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করতে বাধ্য হলেও তা সবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর বিরূপ প্রভাব স্পষ্ট। বিদ্যুৎনির্ভর ছোট শিল্প, কারখানা, দোকানপাট এবং বিভিন্ন সেবাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহে এমন অনিশ্চয়তার কারণে জনমনে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লোডশেডিংয়ের কারণ বা সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গার সাধারণ মানুষ সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হবে।