ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
মাহে রমজানে আলফাডাঙ্গায় ক্যাবের লিফলেট বিতরণ উপজেলা বিএনপি থেকে দুই নেতা বহিষ্কার নিজ বাসার গ্যারেজে থেকে এমপি প্রার্থীর মোটরসাইকেল চুরি গভীর রাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হুমকির অভিযোগ জামায়াতের নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা, ভ্যানচালকের চোখে গুরুতর আঘাত স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীকে রুখে দেওয়ার আহ্বান আরিফুর রহমান দোলনের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন : চার দিন বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং মোবাইল ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞায় গণমাধ্যমকে আওতামুক্ত রাখার আশ্বাস ইসির ‘হ্যাঁ’ ভোটে জনমত গঠনে রাজপথে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বাঁশের সাঁকোর নিচে এমপি প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

বোয়ালমারীতে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি মামলা ও জরিমানার পর বন্ধ কার্যক্রম, ভেকু সরিয়ে নিয়ে মুচলেকা দিলেন অভিযুক্ত

#

আব্দুল মতিন মুন্সি

১৭ জানুয়ারি, ২০২৬,  2:35 PM

news image

আব্দুল মতিন মুন্সী  : বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী গ্রামের চরপাড়া এলাকায় নদীর পাড় কেটে ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগের ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপের পর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। ১৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৪টা ৫৭ মিনিটে অভিযুক্ত ব্যক্তি মাটি কাটা বন্ধ করে ভেকুসহ সব সরঞ্জাম এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫ ধারায় অভিযুক্ত বিপ্লব বিশ্বাস (পিতা: সুভাষ বিশ্বাস), গ্রাম: মহিশালা, ইউনিয়ন: সাতৈর, এর বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা জরিমানাসহ মামলা দায়ের করা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আর নদীর পাড় বা নদীসংলগ্ন এলাকায় কোনো ধরনের মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত হবেন না—মর্মে একটি মুচলেকা প্রদান করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, নদীর স্বাভাবিক তীরভূমি থেকে প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া ভেকু দিয়ে মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়ায় এই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মামলার পরপরই ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ করা হয় এবং ভেকু ও সংশ্লিষ্ট সব সরঞ্জাম এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে চরপাড়া এলাকায় নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রির ফলে নদীর তীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ভারী ভেকু ও ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তা মারাত্মকভাবে নষ্ট হওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর প্রশাসনের নজরে আসে এবং তদন্ত শেষে মামলা দায়ের করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাটি কাটার কারণে এলাকার রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের নদীভাঙনের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। মাটি কাটা বন্ধ হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,

“এখন মাটি কাটা বন্ধ হয়েছে, এটা স্বস্তির বিষয়। তবে ভবিষ্যতে যেন আবার শুরু না হয়, সে জন্য প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি দরকার।”

আইন অনুযায়ী, নদীর স্বাভাবিক তীরভূমি রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং তা ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি ব্যক্তি মালিকানা দাবি থাকলেও প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া নদীসংলগ্ন এলাকা থেকে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

এলাকাবাসীর দাবি, মাটি কাটা বন্ধের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ রাস্তা দ্রুত সংস্কার এবং নদীর পাড় রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

logo সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রিজাউল হক