নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, 3:14 PM
ফরিদপুর-১ আসনে খুনের আসামি দোলনের ‘স্বতন্ত্র’ নাটক
ইমরান খান :-ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুর-১ (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা) আসনের রাজনৈতিক আকাশ এখনো স্বৈরাচারের প্রেতাত্মাদের কালো ছায়ায় আচ্ছন্ন। ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর দেশ যখন নতুন করে গড়ার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন এই জনপদে এক আতঙ্কের নাম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ দোসর ও বিতর্কিত নেতা আরিফুর রহমান দোলন। স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি, দোলনকে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত ফরিদপুর-১ আসন প্রকৃত অর্থে স্বৈরাচার মুক্ত হবে না।
আরিফুর রহমান দোলন কেবল একজন গণমাধ্যম মালিক হিসেবে নিজের পরিচয় দিলেও তার আসল শক্তি ছিল বিগত স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক ছত্রছায়া। বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পদে থেকে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তার বিরুদ্ধে ২০০০ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং (অর্থপাচার) মামলায় সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এই পাচারকৃত অর্থ ব্যবহার করেই তিনি বর্তমানে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন এবং বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও বীর বিপ্লবী ওসমান হাদির প্রয়াণ। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এই সূর্য সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইনকিলাব মঞ্চ, যারা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সোচ্চার, সেই সংগঠনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন।
আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসারত অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে এই বীর যোদ্ধা সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে শাহাদাতবরণ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দোলনের মতো ব্যক্তিদের ইন্ধনেই বিপ্লবীদের কণ্ঠরোধ করতে এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল।
বর্তমানে গুলশান থানার একটি আলোচিত হত্যা মামলার আসামি আরিফুর রহমান দোলন। এই খুনের মামলা থেকে বাঁচতে এবং পুনরায় ক্ষমতা দখল করতে তিনি এখন এলাকায় ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী হওয়ার নাটক সাজাচ্ছেন। স্বৈরাচারের এই দোসর এখন ভোল পাল্টে সাধারণ মানুষের সামনে নির্দোষ সাজতে চাইলেও তার অতীতের কর্মকাণ্ড ও অবৈধ অর্থের দাপট সাধারণ মানুষের কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
খুনিদের পুনর্বাসন বন্ধ হোক: স্থানীয়রা বলছেন, ওসমান হাদির মতো বিপ্লবীদের রক্ত ঝরিয়ে দোলনরা যদি আবার নির্বাচনে অংশ নেয়, তবে তা হবে শহীদদের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
২০০০ কোটি টাকা পাচারের মামলার যথাযথ তদন্ত এবং পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
গুলশান থানার হত্যা মামলার আসামি হিসেবে দোলনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গার বিক্ষুব্ধ জনতা।
ফরিদপুর-১ আসনের মানুষ আজ একাট্টা। তাদের স্পষ্ট বার্তা—খুন, দুর্নীতি আর অর্থপাচারের হোতা আরিফুর রহমান দোলনের জায়গা সংসদের আসনে নয়, বরং আদালতের কাঠগড়ায়। শহীদ ওসমান হাদির রক্তের দাগ মুছে যেতে দেবেনা ফরিদপুরবাসী। এই বীরের স্বপ্নপূরণ এবং জনপদকে স্বৈরাচারমুক্ত করাই এখন এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের একমাত্র সংগ্রাম।