নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ জুলাই, ২০২৬, 11:16 PM
দালালকে ছাড়াতে ম্যাজিস্ট্রেটকে সুপারিশের অভিযোগ: এনসিপি নেতার অডিও ভাইরাল
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করেন উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক আব্দুল জলিল। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনি বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে রাজি না হলে এমপিকে ফোন করার কথা বলেন তিনি। এ ঘটনার একটি অডিও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান এবং এনসিপি নেতা আব্দুল জলিলের কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হয়। এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলা ভূমি অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন দীর্ঘদিন ধরে আলফাডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের বাইরে একটি কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করে আসছেন। ভূমি অফিসের নামে জমির নামজারি, খাজনা পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। এসব কাজের জন্য তিনি দিনে একাধিকবার উপজেলা ভূমি অফিস ও পৌর ভূমি অফিসে যাতায়াত করতেন।
সূত্র আরও জানায়, তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। জমির দালালি ছেড়ে অন্য কোনো বৈধ পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহেরও পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সতর্ক করার পরও তিনি ভূমি অফিসে যাতায়াত এবং দালালির কার্যক্রম বন্ধ করেননি।
মঙ্গলবার পরিচালিত অভিযানে মিলনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
এদিকে ভাইরাল হওয়া অডিওতে শোনা যায়, উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করে বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত মিলন তাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং তাকে একবার শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। জবাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং তার পক্ষে কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর আব্দুল জলিলকে বলতে শোনা যায়, ‘ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি।’
এ বিষয়ে আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমাদের দলের এক নেতার বিষয়টি জানতে পেরে এসিল্যান্ড স্যারকে ফোন দিয়েছিলাম। পরে বিস্তারিত জানতে পেরে কোনো তদবির করিনি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলাম।’
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করা সাংগঠনিক আইন পরিপন্থি। তিনি যদি এমনটি করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। ভূমি অফিসের বাইরে তার ঘোরাফেরার একাধিক ফুটেজও রয়েছে। এছাড়া তার সেবা প্রতিষ্ঠানে কোন সেবা কত মূল্যে প্রদান করা হয়, সে-সংক্রান্ত কোনো মূল্যতালিকা প্রকাশ্যে টানানো ছিল না। আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’