ডেস্ক রিপোর্ট
১৭ মে, ২০২৬, 6:43 PM
টিকটকে প্রেম-বিয়ে, ফরিদপুরে নববধূকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় টিকটকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম ও বিয়ের পর এক নববধূকে গ্রামের বাড়িতে এনে নির্মম নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) সকালে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে গ্রাম পুলিশকে খবর দেন। পরে গ্রাম পুলিশ আহত তরুণীকে নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়দের সামনে নিজের ওপর চালানো নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের কুরানিয়ার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত প্রান্ত শেখ (২২) ওই এলাকার মুজিবর শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্পিগঞ্জ ইউনিয়নের রশিদ শেখের মেয়ে রোকিয়া বেগমের সঙ্গে গাজীপুরে পরিচয় হয় প্রান্ত শেখের। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে প্রায় দেড় মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী রোকিয়া বেগম জানান, শুক্রবার রাতে প্রান্ত তাকে গাজীপুর থেকে নিজ বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে ফরিদপুরের মধুখালীতে নিয়ে আসেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে মধুখালী রেলগেট এলাকায় বাস থেকে নামানোর পর তাকে কুরানিয়ার চর গ্রামের একটি পাটক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাতভর তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
রোকিয়ার অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। এমনকি তার চোখ উপড়ে ফেলারও চেষ্টা করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে কৌশলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করে। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তন্ময় কুমার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও পারিবারিক যাচাই-বাছাই অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।