ডেস্ক রিপোর্ট
১৪ এপ্রিল, ২০২৬, 9:43 PM
জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সংযোজন: চট্টগ্রাম বন্দরে জেট ফুয়েল ও ডিজেলের বড় চালান
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিকৃত ১২ হাজার টন জেট ফুয়েলবাহী জাহাজ ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে নোঙর করেছে। ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড-এর সরবরাহ করা এই জ্বালানি মূলত উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হবে।
একই দিনে রাত ১১টার দিকে আরও প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দু’টি জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ‘এমটি টর্ম দামিনি’ ৩৩ হাজার টন এবং ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ ৩৫ হাজার টন ডিজেল বহন করছে। এই চালানের সরবরাহকারী হিসেবে রয়েছে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর এবং ভিটল এশিয়া।
দেশে মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল নির্ভর হওয়ায় এ চালানটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জেট ফুয়েলের মজুত ছিল প্রায় ২২ হাজার টন, যা দিয়ে দুই সপ্তাহের চাহিদা পূরণ সম্ভব। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় এই মজুত আরও শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে, একই তারিখ পর্যন্ত ডিজেলের মজুত ছিল এক লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১০ দিনের চাহিদা মেটানো যেত। রাতের নতুন চালান যুক্ত হলে এই সক্ষমতা আরও চার থেকে পাঁচ দিন বৃদ্ধি পাবে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, চলতি মাসে ডিজেলের মোট চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। নির্ধারিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, নির্ধারিত সময়ে জাহাজগুলো পৌঁছানোয় চলতি মাসে জ্বালানি তেলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।
এর আগে, গত ৩ এপ্রিল আরও দুটি জাহাজে করে ৬১ হাজার টন ডিজেল দেশে আসে। বর্তমানে দেশে দৈনিক গড়ে ১১ হাজার টনের বেশি ডিজেল এবং প্রায় ১ হাজার ৭৫৮ টন জেট ফুয়েল বিক্রি হচ্ছে।