আব্দুল মতিন মুন্সি
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, 10:41 AM
আলফাডাঙ্গা ভোটারদের কাছে ধানের শীষে ভোট চাইলেন সুবাস সাহা বলেন “নাসির মিয়া নামে এমপি, কামে এমপি আমি”
আব্দুল মতিন মুন্সী : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মধুনগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন হিন্দু মহাজোট/হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য জোটের নেতা সুবাস সাহা। তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান, যা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম–এর প্রতীক।
প্রচারণাকালে এক পথসভায় সুবাস সাহা বলেন—
“নাসির মিয়া নামে এমপি, কামে এমপি আমি।”
তার এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুবাস সাহা বোঝাতে চেয়েছেন— খন্দকার নাসিরুল ইসলাম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে মাঠপর্যায়ে থেকে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে তিনিও সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।
তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য।
তার ভাষায়,
“মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোই বড় কথা। এমপি একা সব জায়গায় যেতে পারেন না, তাই আমরা মাঠে থাকবো।”
মধুনগরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সুবাস সাহা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সম্পত্তি রক্ষা, শিক্ষা ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে কার্যকর নেতৃত্ব দরকার। ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করলে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবো।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুবাস সাহা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন গ্রাম ও মহল্লায় গণসংযোগ করছেন এবং ভোটারদের খন্দকার নাসিরুল ইসলাম–এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচিত হলে নাসিরুল ইসলাম এলাকার উন্নয়ন ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় কাজ করবেন।
সুবাস সাহার বক্তব্যকে কেউ দেখছেন নির্বাচনী কটাক্ষ, আবার কেউ বলছেন এটি মাঠপর্যায়ের জনসেবার প্রতিশ্রুতি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা থাকলেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য জোট দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে আসছে। নির্বাচনের সময় সংগঠনের নেতাদের এ ধরনের সরব উপস্থিতি ভোটের মাঠে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
আলফাডাঙ্গার নির্বাচনী মাঠে এখন জোর প্রচারণা চলছে। প্রার্থীদের পক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সম্প্রদায়ভিত্তিক নেতাদের সক্রিয়তা নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে। সুবাস সাহার সাম্প্রতিক প্রচারণাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।