ডেস্ক রিপোর্ট
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬, 7:14 PM
আলফাডাঙ্গায় কৃত্রিম সংকটের আড়ালে সার পাচার ভ্রাম্যমাণ আদালতে ডিলার আটক, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
আব্দুল মতিন মুন্সী : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কৃষকদের জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারি দামের সার পাশ্ববর্তী উপজেলায় পাচার করার সময় এক ডিলারকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযুক্ত ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের বাজার এলাকা থেকে বোয়ালমারী উপজেলার দিকে পাচারকৃত সার বোঝাই একটি ভ্যান বারাসিয়া নদীর ব্রিজে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ভ্যানচালক সাগর সাংবাদিকদের জানান, সারগুলো বোয়ালমারী উপজেলার সহস্রাইল বাজারের কাটাগড় রোডে অবস্থিত ইলিয়াস মোল্লার দোকানে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।
খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানে আলফাডাঙ্গা বাজারের মেসার্স রাজীব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাজীব কুন্ডুকে আটক করা হয়। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮-এর ৮(১) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
“২১ টাকার সার পেতে দিতে হয় ৩০ টাকা”
সার সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আলফাডাঙ্গার কৃষক আবুল হোসেন। তিনি বলেন,
“দোকানে গেলে বলে সার নেই। অথচ ৩০ টাকা দিলে ঠিকই পাওয়া যায়। সরকার নির্ধারিত দাম ২১ টাকা। প্রতিদিন সকাল-বিকেল নছিমন আর ভ্যানে করে ১০–১৫টি গাড়িতে করে সার বোয়ালমারী ও কাশিয়ানীর দিকে পাচার হয়।”
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, কিছু ডিলার পরিকল্পিতভাবে দোকানে সার মজুত না দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। পরে সেই সার রাত কিংবা ভোরে পাশ্ববর্তী উপজেলায় সরিয়ে নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়।
আগেও জরিমানা, তবু বন্ধ হয়নি পাচার
সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন,
“অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ডিলার এর আগেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল। বারবার একই অপরাধ করায় এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
কৃষি কর্মকর্তার আক্ষেপ
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার শাহা বলেন,
“যোগদানের পর থেকেই সার পাচারের অভিযোগ পাচ্ছিলাম। কিন্তু হাতেনাতে ধরার সুযোগ হচ্ছিল না। কৃষি কর্মকর্তাদের জেল বা জরিমানার ক্ষমতা নেই। সেই ক্ষমতা থাকলে সব ডিলারকে আইনের আওতায় আনা যেত। সাংবাদিকদের সহযোগিতায় এবার প্রমাণসহ আটক করা সম্ভব হয়েছে।”
প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে সার পাচার চললেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাঁদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কৃষকদের জিম্মি করে রেখেছে।
কৃষকদের দাবি, এককালীন অভিযান নয়—নিয়মিত মনিটরিং, জড়িত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল এবং সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিলেই কেবল সার পাচার বন্ধ করা সম্ভব।